প্রবন্ধ

তোমাকে ছুঁয়ে বলছি স্বামীজি

তোমাকে ছুঁয়ে বলছি স্বামীজি
মিহির দেবনাথ খণ্ড 1 · সংখ্যা 1 · JULY · 2025 · 9 বার দেখা

‘শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
ঐ আনন্দে কেটে যাবে সহস্র জীবন।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অহংকারে মুছে যাবে সকল দীনতা।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
স্পর্শসুখে লিখা হবে অজস্র কবিতা।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
শুধু একবার পেতে চাই অমৃত আস্বাদ।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অমরত্ব বন্দী হবে হাতের মুঠোয়।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
তারপর হবে ইতিহাস।’ ( আকাশ সিরিজ : নির্মলেন্দু গুণ)
অমৃতের আস্বাদ যে পেতে চায়, সে শূন্য থেকে শুরু করে। শূন্যের জন্যে লড়াই করে যারা, তাদের চোখ রাঙিয়ে লাভ নেই। বাঁচার মতো ডাল- ভাত জুটলেই হল। সোজা-সাপটা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে কোনো অসুবিধা নেই ওইসব দামাল রাজ্যের যাত্রী যারা।
তোমাকে একবার ছুঁতে পারলেই ওরা ইতিহাস হয়ে যায়। ইতিহাস হওয়ার জন্যে সকলে লড়াই করতে পারে না।' পুরস্কার তিরস্কার কলঙ্ক কণ্ঠের হার' যাদের কাছে, এদের ভয় দেখিও না বন্ধু। এরা আছে বলেই মানুষ কথা বলে, বাগানে ফুল ফোটে। এরা আছে বলেই ইতিহাস যে কী জিনিস, এ নিয়ে চর্চা হয়। রাজমুকুট তুচ্ছ করেই এগিয়ে চলে যারা, এদের অস্থি দধিচির অস্থি। একটি মুষল যদু বংশ ধ্বংসের জন্যে যথেষ্ট। তাই ' ঋষয়ো মন্ত্রদ্রষ্টারো ঋষি দর্শনাৎ'। মন্ত্র দর্শন করেন বলেই তারা ঋষি। অগ্নিশিখা আলো দিতে যেমন পারে, দাবানল হয়ে ভস্মীভূত করতে পারে যাবতীয় অহংকার।
শূন্যের জন্যে লড়াই করা কঠিন। মুখে ভাব কীর্তন করা যায়, বুকে ভাব ধারণ করা যে কত কঠিন, যে করেছে শুধু সে-ই জানে। মহাসাগরের পথে যাত্রা করেছে যে স্রোতস্বিনী, তার সামনে কল্পতরু দাঁড়ালেও সে কিছুই চায় না। ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ---- তার কাছে মৃত্তিকা স্বরূপ। সে সব কিছু কল্পতরুর শ্রীচরণে বিলিয়ে দিয়ে বলতে পারে, ‘আমি শুধু তোমাকে চাই’। ‘সেই তুমি' শত জনমের সাধনা। পুড়তে পুড়তে যে অঙ্গার হয়ে গেছে , তার আর পোড়ার ভয়?
হে বিশ্ববিবেক বিবেকানন্দ, আজ প্রয়াণ দিবসে স্মরণ করি। ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা' -- কী দুরন্ত সংকল্প। বিবেকানন্দ মৃত্যুর অনেক আগেই বলেছিলেন--- ‘I shall never live to see forty. (আমি কোনোদিন চল্লিশে পৌঁছব না) । মৃত্যুর দিন তাঁর সাথী স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ (শশী মহারাজ) মাদ্রাজ মঠে। স্বপ্নে দেখলেন -- স্বামীজি বলছেন, ‘Shashi, I simply spat my body out. (থুতুর মতো শরীরটা ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছি) । সব সময় বলতেন -- আমার আত্মা বড়ো হচ্ছে। এই দেহ তাকে ধরে রাখতে পারছে না।
তাঁর কালজয়ী উক্তি --- অহিংসা ঠিক, ‘নির্বৈর' বড় কথা; কথা তো বেশ, তবে শাস্ত্র বলেছেন- তুমি গেরস্থ, তোমার গালে এক চড় যদি কেউ মারে, তাকে দশ চড় যদি না ফিরিয়ে দাও, তুমি পাপ করবে।... হত্যা করতে এসেছে এমন ব্রহ্মবধেও পাপ নাই- - মনু বলেছেন। এ সত্য কথা, এ ভোলবার কথা নয়।
বীরভোগ্যা বসুন্ধরা বীর্য প্রকাশ কর, সাম-দান-ভেদ-দণ্ড নীতি প্রকাশ কর, পৃথিবী ভোগ কর, তবে তুমি ধার্মিক। আর ঝাঁটা-লাঠি খেয়ে চুপটি করে ঘৃণিত জীবন যাপন করলে ইহকালেও নরকভোগ, পরলোকেও তাই। এটি শাস্ত্রের মত। সত্য, সত্য, পরম সত্য-স্বধর্ম কর হে বাপু। অন্যায় কর না, অত্যাচার কর না, যথাসাধ্য পরোপকার কর।
কিন্তু অন্যায় সহ্য করা পাপ, গৃহস্থের পক্ষে; তৎক্ষণাৎ প্রতিবিধান করতে হবে। মহাউৎসাহে অর্থোপার্জন করে স্ত্রী-পরিবার দশজনকে প্রতিপালন কর- দশটা হিতকর কার্যানুষ্ঠান করতে হবে। এ না পারলে তো, তুমি কিসের মানুষ? গৃহস্থই নও- আবার মোক্ষ !'
(স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য)

9 বার দেখা 0 বার শেয়ার

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

লেখক: মিহির দেবনাথ
লেখকের পাতা দেখুন

সম্পর্কিত লেখা