সময়োত্তীর্ণ
আজ শহরে একটা বড়ো অনুষ্ঠান। ওখানে অংশ গ্রহণের জন্য অপরূপার নিমন্ত্রণ এসেছে জেলাধিপতির অফিস থেকে।
শ্বশুর মশাইকে চা দিতে যেতেই উনি ডাকলেন...বৌমা তোমাকে নাকি এ বছরের সেরা সাহিত্যিক হিসেবে ওরা সম্মান জানাতে চায়, তুমি কি এমন কাজ করলে?
...ঘর সংসার উচ্ছন্নে ফেলে দিস্তা দিস্তা কাগজ নষ্ট করে উনি গল্পের বই লিখেছেন বাবা।
কথাটা শুনে অপু ঘুরে দাঁড়িয়ে বরের তাচ্ছিল্য ভরা দৃষ্টির দিকে সোজাসুজি তাকালো, বলল... সংসারের কোন বিষয়টা উচ্ছন্নে গেল রূপক? রান্নাবান্না, কাপড় চোপড় ধোঁয়া, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, বাজার হাট সবকিছু তো এক হাতেই করি। একজন সহায়ক রাখিনি তোমার বাড়তি খরচা হবে বলে।
...ঘরে বসে গল্প লিখে তোমার সংসার চলত? যদি আমি মাথার ঘাম পায়ের ফেলে রোজগার করে আনতাম?
...তুমি পরিশ্রম করে রোজগার করছ বলেই তো আমি ঘরের ভেতরের সবকিছুর বোঝা নিজের মাথায় নিয়েছি রূপক। এতো সব কাজের মধ্যেও যদি আমি অবসর সময়ে লেখালেখি করে, জমানো টাকা দিয়ে একটা গল্প সংকলন ছাপিয়ে থাকি এবং এটা বিখ্যাত হয়ে যায় আর এইজন্য আমি পুরস্কৃত হই তাতে সংসারের তো কোন ক্ষতি হচ্ছে না।
...কিন্তু আমার তো ক্ষতি হচ্ছে, এখন এই শহরের মানুষ আমাকে অপরূপা দাশমুন্সির বর বলে চিনবে। আমার কি নেই? বাড়ি, গাড়ি, বড় চাকরি। জীবনের এতো কিছু প্রাপ্তির পর এখন তোমার নামে আমাকে পরিচিত হতে হবে?
অপরূপা আকাশ থেকে পড়ল যেন!...মানে? আমার এই প্রাপ্তি তোমার জন্য কিছুই নয়? এতোদিন তো আমি তোমার স্ত্রী হিসেবে গর্ববোধ করেছি। আমার তো একবার ও মনে হয়নি ঐ কথাটা।
...তোমার কেন মনে হবে? তুমি তো ঘরের কর্তা নয়, তুমি তো পুরুষ নয়।
...ওহো এখন বুঝলাম, তোমার পৌরুষে লাগছে। ঠিক আছে তুমি আধুনিক হতে পারো নি এটা তোমার দুর্বলতা। কিন্তু আমি শহরের সেরা সাহিত্যিক পুরস্কার পাবার পর রাতে ঘরে ফিরেও সেই হেঁসেলে ঢুকবো রূপক। সেই পরিবারের সদস্যদের যত্ন করবো, কেন জানো? আমি পরিবারকে ভালোবাসি। আর ভালোবাসায় ছোট বড় হয় না রূপক। শুধু ভালোবাসা হয়।
দুই পুরুষের দুই পুরধাকে স্তম্ভিত দাঁড় করিয়ে রেখে অপরূপা এগিয়ে গেল আগামীর কুয়াশা কেটে ফুটে ওঠা সূর্যের দিকে।
0 Comments
No comments yet. Be the first to share your thoughts!