অন্তর্লোকে প্রতিচ্ছায়া
রঙিন স্বপ্নে শুরু হয় সম্পর্কের আদি আলো,
চোখের ভেতর জেগে ওঠে অদৃশ্য এক ভালো।
সে দেখে না তোমাকে—দেখে মনের নির্মাণ,
অন্তরের ক্যানভাসে আঁকা এক কল্পরূপ প্রাণ।
তুমি তখন ছবি মাত্র, যাচাইয়ের অবলম্বন,
মিলিয়ে দেখে—স্বপ্নসাথে মেলে কি বাস্তব মন।
যে চরিত্র গোপনে তার অন্তরে গাঁথা,
তুমি শুধু ভূমিকায় দাঁড়াও নিঃশব্দে বাঁধা।
মনোবীক্ষণ বলে—এ অন্তর্লীন পুরুষছায়া,
অচেনা সেই শক্তি কখন স্বৈরাচারী মায়া।
যখন তোমার বাস্তব রূপ ভেঙে দেয় সেই ছাঁচ,
মন তখন খোঁজে অন্য মুখ, বদলায় রূপসাজ।
পুরুষও ভাবে—এ বুঝি ভালোবাসার আহ্বান,
আসলে সে নিয়োজিত এক পূর্বনির্ধারিত ভূমিকা প্রাণ।
ভাঙনের পরে জাগে আহত নীরব সুর,
দোষহীন তবু কেন জ্বলে অন্তরের আলো ভর?
মুক্তির পথ আত্মজ্ঞান—স্বত্বার প্রতিষ্ঠা,
নিজের শক্তি-দুর্বলতায় সচেতন দীক্ষা।
অন্তঃনারী-অন্তঃপুরুষ মিলুক সত্তার তলে,
তবেই সত্য প্রেম জাগে কল্পনাহীন ফলে।
যে নিজেকে চিনেছে, সে আর কারও নয়,
নিজস্বতার ভিত্তিতেই তার স্বাধীনতার জয়।
0 Comments
No comments yet. Be the first to share your thoughts!