ছিন্নমূল ও দেশভাগ
আঁধার রাতে চুরটের ধোঁয়ায়, শ্যাম্পেনের ফোরায়ায় আঁকা হয় দেশভাগের নকশা,
অগ্নিগর্ভে লালিত হয়েছিল, বিষণ্ণ রাতের পৈশাচিক উল্লাস।
লালসার প্রবৃত্তি জেগেছিল
‘মা' টি- কে নিয়ে ছিনিবিনি খেলার
ফ্যান্টাসির আলেখ্যে ছিল ঘাতকের ছুরির ঘাত, বন্দুকের বিকট আওয়াজ।
সুবিবাবাদী সরীসৃপরা মৃত্যুদ্বীপ সাজিয়েছিল অখণ্ড ভারতভূমিকে,
নিবিড় গোপনে ঠাঁই হয়েছিল ছিন্নমূল মানুষের দগদগে লাশের ক্ষত
তুলতুলে মাংসপিণ্ডের রক্তের ধারায় নির্ধারিত হত নারীর সম্ভ্রম।
তবুও মেটানো যায়নি আশ্রয়হীন অসহায় পরিযায়ীদের অব্যক্ত কথা;
কলিযুগের চক্রব্যুহ যে সুসজ্জিত ছিল কুটনীতির চালে।
ঔরঙ্গজেব, তৈমুরের দাপটে অবীর'রা ছিল অঘোষিত কালাপানির সাজাপ্রাপ্ত
কফিনে ভরা অর্ধনগ্ন, পোড়া পচা গলা লাশ;
কলিকালে পাশাখেলায় সুকৌশলে লেখা হয়েছিল ছিন্নমূল মানুষের ইতিবৃত্ত
আজও সেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের অবসান হয়নি, উত্তরকালের পঞ্জিতে তৈরি হচ্ছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশভাগের পটচিত্র।
কারণ রাজনীতির মোহড়া থেমে থাকে না,
তাঁদের শিরা উপশিরা প্রতিনিয়ত প্রলয়িত নির্মম লোকের সংহার, শোষণের জন্য
কত কাল বয়ে যায়, ভুলা যায় না ধূসর রাতের দুঃস্বপ্ন।
তবুও বলি "ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’।
0 Comments
No comments yet. Be the first to share your thoughts!